দুই মাসের জ্বালানি মজুদ নিয়ে চালু হচ্ছে রামপাল

প্রকাশিত: 4:12 PM, August 13, 2023

দুই মাসের জ্বালানি মজুদ নিয়ে চালু হচ্ছে রামপাল

জাতীয় ডেস্ক :

দুই মাসের কয়লা আমদানির নিশ্চয়তা নিয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যে চালু হতে যাচ্ছে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত বছরের ডিসেম্বরে চালু হওয়া পর কেন্দ্রটি জ্বালানির অভাবে ছয়বার বন্ধ হয়েছে। কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশে ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যুৎ কোম্পানি। এটিতে সমান মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডর (এনটিপিসি)।

এর আগে সর্বশেষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গত ৩০ জুলাই থেকে কয়লা সংকটে বন্ধ রয়েছে। রোববার বিদ্যুৎ কেন্দ্রর জন্য আসা কয়লা খালাস শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রটির জন্য ৫৬ হাজার টনের একটি কয়লার জাহাজ মংলা বন্দরের বর্হিনোঙরে ভেড়ে। গত দুই দিন সাগর উত্তাল থাকায় কয়লা খালাস করা সম্ভব হয়নি।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র বলছে, কেন্দ্রটির একটি ইউনিট ফুল লোডে চালানোর জন্য প্রতি দিন ৬ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হবে। তবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটিতে থাকায় এটি কখনওই ফুল লোডে চালানো সম্ভব নয়। এ কারণে কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ ৫০০ মেগাওয়াট লোডে চালানো হয়।

জানতে চাইলে পিডিবির পরিচালক শামিম হাসান বলেন, রামপালের জন্য দুই মাসের কয়লার ব্যবস্থা হয়েছে। কেন্দ্রটি দুদিনের মধ্যে চালু হচ্ছে। কয়লার প্রথম জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী আরও জাহাজ আসবে। এজন্য কয়লা আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অর্ধেক মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হাতে। বাকি অর্ধেক মালিকানা রয়েছে ভারতীয় কোম্পানি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) এর হাতে। কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। অন্য ইউনিটটি গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে বলে জানিয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র।

কেন্দ্রটির কয়লা আমদানির দায়িত্বে রয়েছে দেশের একটি শীর্ষ শিল্প গ্রুপ। তাদের জাহাজেই এই চালানের কয়লা এসেছে।

সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম কমে আসায় এখন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ সবচেয়ে কম। তেল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিটে পিডিবিকে ১২/১৩ টাকা ব্যয় করতে হয়। সেখানে দেশের কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ ৯ টাকার নিচে নেমে এসেছে।

উৎপাদন চার্টের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত কয়েক দিন থেকে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উৎপাদন করছে। এরসঙ্গে রামপাল যুক্ত হলে কয়লা বিদ্যুতের উৎপাদন গড়ে ৩০০ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বাড়তে পারে। এতে দৈনিক বিপুল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, চাহিদা এবং সরবরাহের দিক বিবেচনা করলে সেপ্টেম্বর থেকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। নভেম্বর থেকে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি পযন্ত বিদ্যুতের চাহিদা দৈনিক আট থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবন্ধ থাকবে। সেক্ষেত্রে তেল বাদ দিয়ে শুধু গ্যাস এবং কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে বিপুল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে।

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

0Shares