কেন পেট ব্যথা হয়, যেসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

প্রকাশিত: 9:45 PM, January 30, 2024

কেন পেট ব্যথা হয়, যেসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

 

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেট ব্যথাকে আমরা পাত্তা দেই না। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই কিছুক্ষণ পর এটি নিজ থেকেই চলে যায়। পেটের ব্যথা নানা ধরনের হয়ে থাকলেও কিছু ব্যথা আছে যেগুলো হঠাৎ করে শুরু হয় এবং একটু পর ভালো হয়ে যায়। এই ব্যথা খুব তীব্র হয় না। আবার কিছু ব্যথা আছে হঠাৎ করে শুরু হলেও বেশ তীব্র ও কষ্টদায়ক হয়। এছাড়াও কিছু ব্যথা আছে একবার শুরু হলে সহজে ভালো হয় না।

যুক্তরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, পেট হলো পাঁজর ও শ্রোণির (পেলভিস) মধ্যবর্তী জায়গা। এই জায়গাটা হলো আমাদের পাকস্থলী, যকৃত, পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্রের বাড়ি। এগুলোকে একসঙ্গে পাচনতন্ত্র বলা হয়। এইসব অঙ্গের কোথাও যদি সামান্যতম অস্বস্তিও হয়, তাহলেই আমরা পেটে ব্যথা অনুভব করি।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যদি আপনার ঢেকুর হয় এবং একই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে বায়ু নির্গমন হতে থাকে, তাহলে পেটে আটকে পড়া বাতাস এমন পেট ব্যথার কারণ হতে পারে।

সাধারণত পাকস্থলী ও অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণে পেট ব্যথা থাকে। চিকিৎসা ছাড়াও এটি কয়েক দিন পর ভালো হয়ে যেতে পারে। গ্যাসট্রোএনটারাইটিসে আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এলে বা জীবাণু সমৃদ্ধ খাবার খেলে এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া বার বার হয়, তাহলে সেটি আবার ইরিটেবেল বাওয়েল সিনড্রোম’র উপসর্গ হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া পেট ভর্তি অনুভূত হওয়া, খাওয়ার পর ঢেকুর, বুক জ্বালাপোড়া, অসুস্থবোধ করলে বুঝতে হবে বদহজমের কারণে হচ্ছে। আর পাতলা পায়খানা, অসুস্থতা, বমি এগুলো পাকস্থলীতে জীবাণুর সংক্রমণ বা খাদ্য বিষক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এছাড়াও নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের সময় পেট ব্যথা হতে পারে।

হঠাৎ করে পেটের কোনো অংশে তীব্র ব্যথা গুরুতর সমস্যা ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসা না নেয়া হলে এটি খারাপের পাশাপাশি বিপজ্জনকও হতে পারে। যদি আপনার গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেটির পরীক্ষা দ্রুত করে ফেলতে হবে।

পেটে তীব্র ব্যথা যেসব কারণে হতে পারে: ১. অ্যাপেনডিসাইটিস, ২. গ্যাসট্রাইটিস ৩. কিডনিতে পাথর ৪. ওষুধ সেবন ৫. জীবাণুর আক্রমণ ৬. পেলভিক ইনফ্লেমেটরি ডিজিস বা পিআইডি বা প্রদাহজনিত রোগ ৭. মানসিক চাপ ৮. আলসার ৯. ত্রুটিযুক্ত গর্ভধারণ।

দীর্ঘদিন ধরে যদি বার বার পেট ব্যথা হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ধরণের পেটব্যথার পেছনে সাধারণত জটিল কারণ থাকে না এবং সেগুলো চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে উঠা সম্ভব। এই পেট ব্যথার কারণ হতে পারে, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম। সাধারণত টয়লেটে গেলে এই ব্যথা শুরু হয়।

এছাড়া পেটে প্রদাহজনিত রোগ এবং মূত্রনালীতে সংক্রমণের জন্য পেট ব্যথা হতে পারে। মূত্রনালীতে সংক্রমণ হলে বার বার পেট ব্যথা হয় এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হতে পারে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের কারণেও দীর্ঘস্থায়ী পেট ব্যথা বা বার বার পেট ব্যথা হতে পারে। পেটব্যথার সঙ্গে মলত্যাগ না হওয়ার লক্ষণ থাকলে সেটি কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের লক্ষণ।

পেট ব্যথার সাথে যেসব উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে: পেট ব্যথা যদি দ্রুত বাড়তে থাকে, পেট ব্যথা বা ঢেকুর তোলা থামছে না এবং একটু পর পর আবার শুরু হচ্ছে, পেট ব্যথার সঙ্গে খাবার গিলতে সমস্যা হচ্ছে, চেষ্টা না করেও ওজন কমছে,বার বার প্রস্রাব হচ্ছে কিংবা একেবারেই প্রস্রাব হচ্ছে না, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হচ্ছে, মলদ্বার বা মূত্রনালী থেকে রক্তপাত হচ্ছে বা অস্বাভাবিকভাবে অন্য কোনো তরল নির্গত হচ্ছে, ডায়রিয়া হওয়ার কয়েক দিন পরও তা ভালো হচ্ছে না।

পেট ব্যথার সঙ্গে যেসব উপসর্গ থাকলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে: যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য বলছে- হঠাৎ করে পেট ব্যথা শুরু হওয়ার পর সেটা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে, পেটে স্পর্শ করলেই ব্যথা অনুভব হলে, রক্ত বমি শুরু হলে বা বমির রং কফির মতো হলে, মলের সঙ্গে রক্ত পড়লে বা মলের রং কালো, আঠালো ও তীব্র দুর্গন্ধ হলে, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে, মলত্যাগ বা বায়ু নির্গমন বন্ধ হয়ে গেলে, নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলে বা শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হলে, বুকের ব্যথা শুরু হলে, ডায়াবেটিস থাকলে এবং বমি শুরু হলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে।

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares