বুফে খাওয়া হালাল না হারাম, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

প্রকাশিত: 7:34 PM, February 2, 2024

বুফে খাওয়া হালাল না হারাম, জানালেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

 

 

বুফে খাবারের পরিমাণ অজানা থাকে। মানুষ কী পরিমাণ খাবার খাবে, সেটা কেউ জানে না। দুই হাজার, আড়াই হাজার কিংবা তিন হাজার টাকা চুক্তিতে যতগুলো আইটেম আছে, মানুষ খেয়ে থাকে। সাধারণত বিক্রিত কোনো পণ্যের মূল্য অজানা থাকলে সেটা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ কোনো চুক্তি হয় না। পরবর্তীতে এই অজানা থাকার কারণে মতপার্থক্যের পথটি রুদ্ধ হয়ে যায়। তবে মৌলিকভাবে বুফে খাওয়া হারাম কিছু না।

বিষয়টি যদি ফিক্সড হয়ে যায়, যেমন রিকশা ভাড়া আপনি ঠিক করা ছাড়া উঠলেন। কিন্তু যেখানে গেছেন সেখানে ২০ টাকা ভাড়া দিয়েছেন এবং রিকশাওয়ালাও ভাড়া মেনে নিয়েছে। এরকম যদি হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে অজানা হওয়ার কারণে তাদের এই চুক্তিটা ঠিক ছিলো না কিন্তু দুইজনই মেনে নেয়ার ফলে বা কোনো প্রকার আপত্তি না থাকার কারণে সেটি বৈধ হয়ে যায়।

বুফে খাওয়ায় কী পরিমাণ খাবে না খাবে সেটা অজানা থাকে। কিন্তু এটা নিয়ে যেহেতু দুই কথা হয় না এবং যতটুকু খেতে পারে মালিক পক্ষ সেটা মেনে নেয়। আর যিনি খাচ্ছেন তিনি কম খেতে পারলেও টাকা ফেরতের কোনো আবদার থাকে না। তাই এই সমস্ত কারণে এটা মৌলিকভাবে বৈধ। তবে এখানে খেতে গিয়ে যদি খাবারের অপচয় কেউ করেন সেটা হারাম। সেটা গুনাহ হবে। সেটার সঙ্গে শুধু বুফের সম্পর্ক তা নয়, বুফের বাইরেও কেউ যদি খাবার নষ্ট করে তা হারাম হবে।

তবে বুফের মধ্যে সচরাচর অনেক বেশি খাবার নষ্ট করা হয়। তা ছাড়া ঈমানদারের যে চেতনা, ঈমানদারে যে বিশ্বাসের জায়গা দুনিয়াতে আমরা এসেছি এটা ভোগের জায়গা নয়। দুনিয়াতে আমরা ভোগ করতে পারি কিন্তু ভোগ করাটা জীবনের মূল উদ্দেশ্য না। খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য।

বুফে যদি আমরা শখ করে খাই তাতে হারাম হবে না। কিন্তু এরকম ভোগ বিলাসের মধ্যে ডুবে থাকা বিশেষ করে অনেক মানুষ আছে যারা এটাকে জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য মনে করে। সেটা অনুচিত লেভেলের হবে। হারাম তখন হবে, যখন আপনি প্রচুর পরিমাণে খাবার নিয়ে সেগুলো নষ্ট করবেন। ভবিষ্যতে এটা যদি অনেক বেশি হয় তাহলে জায়েজ হবে না।

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares