এ কে আজাদ:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নের কুলুমছড়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে দুই সন্তানের জনক এক ব্যক্তির বাড়িতে তিন দিন ধরে অবস্থান করছেন মোহনা আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী। এ ঘটনায় নতুন মোড় এনে ভুক্তভোগী মোহনা নিজেই বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের কুলুমছড়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান শুরু করেন মোহনা আক্তার। ঘটনার খবর পেয়ে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তানসহ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। তবে মঙ্গলবার সকালে তার স্ত্রী বাড়িতে ফিরলেও কামরুল এখনও পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মোহনা আক্তার উপজেলার বিছনাকান্দি গ্রামের রুনু মিয়ার মেয়ে।
লিখিত অভিযোগে মোহনা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বাড়ির পাশেই কামরুল ইসলামের বালু ও পাথরের ব্যবসার সাইট ছিল। সে সময় আত্মীয়তার সূত্র ধরে কামরুল তাদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে একদিন বাড়ির পাশের নদীর ঘাটে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে সম্পর্ক বজায় রাখেন কামরুল এবং বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে মোহনা জানতে পারেন, কামরুল বিবাহিত এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। তখন তিনি সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চাইলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি জানাজানি হলে ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিসের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত ১১ জুলাই সকাল থেকে বিয়ের দাবিতে কামরুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নেন মোহনা। তার দাবি, কামরুল তার জীবন নষ্ট করেছেন। বৈধ স্ত্রীর স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বাড়ি ছেড়ে যাবেন না।
কিশোরীর অভিযোগ, অভিযুক্তের স্বজনরা তাকে মারধরও করেছেন। অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে তিনি নিজেই বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত কামরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।