সিলেট [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
প্রকাশিত: 12:12 PM, June 8, 2026
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতারের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। নৃশংস এই অপরাধের জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। একই সঙ্গে আসামিদের ৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
একনজরে দ্রুত বিচারের রেকর্ড : তদন্ত ও সুরতহাল: ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএ ও সুরতহাল রিপোর্ট জমা। অভিযোগপত্র: মাত্র ৪ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল। সাক্ষ্য গ্রহণ: ২ দিনে ১৬ জনের সাক্ষ্য রেকর্ড। বিচার প্রক্রিয়া: মাত্র ৫ কার্যদিবসে পুরো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন। মোট সময়: ঘটনা থেকে রায় পর্যন্ত সর্বমোট ১৯ দিন।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এক আবেগঘন পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বলেন, “এই মামলা কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা।” একটি নিষ্পাপ শিশুর সুরক্ষাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন ও বিচার ব্যবস্থার সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার কারণেই এই অভূতপূর্ব ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা, তবে রায় পড়ার আগে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাঁদতে দেখা যায়। আদালত কক্ষ থেকে তাদের বের করার সময় বাইরে অপেক্ষমাণ ক্ষুব্ধ জনতা ‘খুনি খুনি’ বলে স্লোগান দেন এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এই রায়কে বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এডভোকেট মুসা আলিমুল্লাহ-ও রায়ের প্রশংসা করে বলেন, “আসামি নিজেই আত্মস্বীকৃত অপরাধী ছিল। এই রায়ের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট বার্তা গেছে যে, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।”
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, “আমি দ্রুত এই রায় কার্যকর দেখতে চাই।” আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে মামলার বাকি বিচারিক প্রক্রিয়া (উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স ইত্যাদি) শেষ করা সম্ভব হবে। এদিকে দ্রুততম সময়ে তদন্ত ও বিচারিক কাজ শেষ করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ১৯শে মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে নির্মমতার শিকার হয় শিশু রামিসা। সকালে বাসা থেকে বের হওয়া মাত্রই পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে শরীর থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এই কাজে সোহেলকে সরাসরি সহায়তা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না। পরদিন পল্লবী থানায় মামলা হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে। ঘটনার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী নিজে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে যান এবং দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
Administrative Contact:
Name: Fatama Akter Shiuly
Address: Sheikhghat Sylhet.
Postal Code: 3100
Email: siuliakter571@gmail.com
Phone: 880 1760275449
প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী
Users Today : 52
Users Yesterday : 9
Users Last 7 days : 202
Users Last 30 days : 235
Users This Month : 235
Users This Year : 235প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী Phone: 880 1760275449
