, ,

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা ও দফায় দফায় পুলিশের বাধা এনসিপির সড়কে অবস্থান

শিউলী
প্রকাশিত July 30, 2026, 05:11 PM
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা ও দফায় দফায় পুলিশের বাধা এনসিপির সড়কে অবস্থান

হবিগঞ্জে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, দফায় দফায় পুলিশের বাধা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে হামলার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। অন্যদিকে, বহরে হামলার অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এনসিপি।

গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ পৌর শহরে সমাবেশের ডাক দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তীতে সেখানে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয় এনসিপি।

এদিকে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা রাস্তায় বসেই অবস্থান নেন।

পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাধা অতিক্রম করে হবিগঞ্জের উদ্দেশে ফের রওয়ানা হলেও হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকায় পৌঁছালে আবারো পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানেও নেতারা সড়কে বসে পড়ে প্রতিবাদ জানান।

পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তুলে বলেন, “নিরাপত্তার জন্য থ্রেট কারা? আপনি তাদের না ধরে আমাদের রাস্তা আটকাচ্ছেন? হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা দিয়েছেন, কিন্তু শ্রীমঙ্গলের রাস্তা আটকাচ্ছেন কেন? কোন আইনে আমাদের বাধা দিচ্ছেন?” প্রতিউত্তরে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা সীমানা পার হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানালে হাসনাত বলেন, “সিকিউরিটি দিতে পারলে দেন, না পারলে আমরা আমাদের দায়িত্ব নিয়ে চলে যাব।”

ঘটনাস্থলে এনসিপি নেতা সারজিস আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিএনপি সরকার প্রশাসনকে আবার আওয়ামী লীগের মতো ব্যবহার করছে। আমরা ১৪৪ ধারার ধারেকাছেও যাইনি, অথচ আমাদের আটকে দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে হবিগঞ্জে পদযাত্রার সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।

অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।