গানের জন্য ঘর ছাড়লেও দেশ ছেড়ে থাকতে চাননি তিনি

প্রকাশিত: 10:27 AM, October 3, 2023

গানের জন্য ঘর ছাড়লেও দেশ ছেড়ে থাকতে চাননি তিনি

বিনোদন ডেস্ক:

তার গান গাওয়াতে সায় দেননি বাবা-মা। কিন্তু নিজের স্বপ্নের জলাঞ্জলি দিতে নারাজ ছিলেন তিনি। তাই নিজের ঘর ছেড়ে গিয়ে ওঠেন চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে। সেখানেই ক্রমশ প্রসারিত হয় তার গানের জগৎ। হয়ে ওঠেন নগর বাউল। বলছি বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তী মাহফুজ আনাম জেমসের কথা। আজ তার জন্মদিন। ১৯৬৪ সালে নওগাঁয় তার জন্ম, বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে।

গানের জন্যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যায় তার জনপ্রিয়তা। ২০০৫ সালে ডাক পান বলিউডে। সেখানে গান করেও নিজেকে প্রমাণ করেন। তার কণ্ঠে হিন্দি গানগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, যে ইন্ডাস্ট্রি সুযোগ পাওয়া অনেকের জন্য সোনার হরিণ পাওয়ার মতো ব্যাপার সেই বলিউডে স্থায়ী হননি তিনি।

কিন্তু কেন? কারণ বলিউডের জন্য তাকে মুম্বাইতে স্থায়ী থাকতে হতো। আর দেশ ছেড়ে তিনি থাকতে চাননি। তাই তো বছর দেড়েক আগে এক অনুষ্ঠানে অকপটে বলেছিলেন, ‘বলিউডে তখন ক্যারিয়ার গড়তে পারতাম। খুব সহজ ছিল। কিন্তু সেখানে স্থায়ী হলে আমাকে বাংলাদেশটা ছাড়তে হতো। যেটা আমাকে দিয়ে সম্ভব নয়। আরও বড় প্রলোভন দিলেও দেশ আমি ছাড়তে প্রস্তুত নই। তাই আর বলিউডে কনটিনিউ করা হয়নি।’

গানের ভুবনে জেমসের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ১৯৮০ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে। সাত বছর পর এই ব্যান্ডের হয়ে প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ করেন। এর কিছু গান দারুণ সাড়া পায়। পরের বছর ‘অনন্যা’ শীর্ষক একটি একক অ্যালবাম নিয়ে আসেন তিনি। যা তাকে সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত করে।

‘ফিলিংস’ ব্যান্ড থেকে তিনি আরও উপহার দিয়েছেন ‘জেল থেকে বলছি’, ‘নগর বাউল’, ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘কালেকশন অব ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো। পরবর্তীতে এটি ভেঙে নতুন ব্যান্ড ‘নগর বাউল’ গঠন করেন তিনি। সেই থেকে তিনিও শ্রোতাদের কাছে নগর বাউল নামেই পরিচিত।

এই ব্যান্ড অবশ্য মাত্র দুটি অ্যালবাম ‘দুষ্টু ছেলের দল’ এবং ‘বিজলি’ উপহার দিয়েছে। তবে একক অ্যালবাম হিসেবে তিনি প্রকাশ করেছেন ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’ এবং সর্বশেষ ‘কাল যমুনা’।
তার কণ্ঠে জনপ্রিয়তার আকাশ ছোঁয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘কবিতা’, ‘পাগলা হাওয়ার তরে’, ‘গুরু ঘর বানাইলা কী দিয়া’, ‘বাবা কত দিন দেখি না তোমায়’, ‘মা’, ‘কাল যমুনা’, ‘কুসুম কুসুম প্রেম’, ‘মীরাবাঈ’, ‘আসবার কালে আসলাম একা’, ‘তোর প্রেমেতে অন্ধ হলাম, ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘এক নদী যমুনা’ ইত্যাদি।

সংগীত তাকে দিয়েছে দু’হাত ভরে। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা উপভোগ করছেন এখনও। এর পাশাপাশি দুইবার শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও ঘরে তুলেছেন।

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares