এ ক্ষতি পোষাতে পারবেন কেউ, ৯ মাসেও বিচার না পাওয়ায় অভিনেত্রীর ক্ষোভ

প্রকাশিত: 12:11 PM, October 21, 2023

এ ক্ষতি পোষাতে পারবেন কেউ, ৯ মাসেও বিচার না পাওয়ায় অভিনেত্রীর ক্ষোভ

বিনোদন ডেস্ক:

গত জানুয়ারিতেই রাজধানীর মিরপুরের একটি শুটিং হাউজে দগ্ধ হন ছোটপর্দার অভিনেত্রী শারমিন আঁখি। ঘটনার দীর্ঘ ৯ মাস পার হলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন অভিনয়শিল্পী সংঘে অভিনেত্রীর পরিবার থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ৯ মাসে এ ঘটনার কোনো ন্যায়বিচার পাননি তারা। এমনকি অভিযুক্তদের কাছ থেকে জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে পারেনি সংগঠনটি। আর এ বিষয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শারমিন আঁখি।

 

শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাসে এই ক্ষোভ জানান তিনি। সঙ্গে একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন। যেখানে চোখে সাদা কাপড়ে মোড়ানো একগুচ্ছ গোলাপ আর তাতে লেখা ‘ট্রাস্ট’। আর ব্যান্ডেজ দিয়ে মুখ বন্ধ।

শারমিন আঁখি লিখেছেন, ‘ইদানিং একটু আক্টু বের হচ্ছি। কাজের মানুষজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে, কথা হচ্ছে। আর ঘুরে ফিরে একটা প্রশ্ন আসছে, অভিযোগ করলাম না কেন? অভিযোগ করলে আমি নাকি ন্যায়বিচার পেতাম । তাহলে আপনরা মেনে নিচ্ছেন অন্যায় অবশ্যই হয়েছে। শুধু বিচারটা হয় নাই। ধন্যবাদ আপনাদের।’

‘আমি অভিযোগ করিনি এটা ভুল তথ্য। আমি যখন হাসপাতালে, আমার পরিবার তো সংগঠনে গিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংগঠনে হাজির করেছে। তার সামনে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দায়িত্ব তো ওই কমিটি আর সংগঠনের। এখন সংগঠনের কাজ, যে অন্যায়টা হয়েছে তার একটা দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা তৈরি করা। এটা কি আমার কাজ? নাকি এখন প্রতি পদে পদে এই জবাবদিহিতা আমাকেই করতে হবে? তাহলে নিজেদের দায় এড়াতে আমাকে কেন অভিযুক্ত করছেন, আমার পরিবার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি?’

এ অভিনেত্রীর কাছে অনেকে জানতে চাইছেন, কোনো ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কি না। এ ব্যাপারে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘অতি এক্সাইটেড হয়ে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী জানতে চাচ্ছে, আমি ক্ষতিপূরণ চাইলাম না কেন? সংগঠন নাকি ব্যবস্থা নিতে পারত। একটা মানুষ দুর্ঘটনার স্বীকার হলে সবার আগে মাথায় আসে কত টাকা ক্ষতিপূরণ পেল বা কত টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা করল। আমি কি একবারও বলেছি ক্ষতিপূরণ চাই? আমি কি একবারও বলেছি মামলা করতে চাই? আমার ক্ষতিপূরণ লাগলে আমি সংগঠনের কাছে কেন যাব? যাব তো কোর্টে, ২/১ কোটি টাকার মামলা করতাম, মামলায় জেতার দরকার নেই। শুধু ১০ বছর মামলা টানলেই হতো।’

 

তিনি লিখেছেন, ‘আমি সামাজিক মাধ্যমে, বিভিন্ন ইন্টারভিউতে, প্রেসব্রিফিংয়ে, যখন যেখানে কথা বলতে পেরেছি বারবার রিপিট করেছি, ক্ষতিপূরণ না অন্যায় যেটা হয়েছে সেটার একটা দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা তৈরি করেন। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনার স্বীকার আর কেউ যেন না হয়। আমার ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলেন তো, ক্ষতিপূরণ দিয়ে আমার ক্ষতি পুষাতে পারবেন কেউ? এই ক্ষমতা কি এই সমাজের আছে? আমাকে এমন লোভী বানানোর অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের? ’

শারমিন আঁখির অভিযোগ, ‘একটা তো কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গিল্ড আর ইকুইটি সেই কমিটি গঠন করে দিয়েছে। সংগঠন থেকে কমিটিকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে না ? কমিটি কি রিপোর্ট দিয়েছে? কই সেটা, দেখান? আজকে তো ৯ মাস। কোথায় সেই কমিটি? কমিটি হয়ে যাওয়ার পর কমিটির পেছনে কি আমার পরিবার সরকারি অফিসের মতো বার বার গিয়ে ঘেন ঘেন করবে? কী হলো ভাই, কী করলেন, অগ্রগতি কী…? নাকি সংগঠন সেই কমিটিকে ফলোআপ করবে? নিয়ম অনুযায়ী কমিটি কমিটির মতো করে তার রিপোর্ট পেশ করবে। ওই কমিটিতে ইম্রাউল রাফাত, ইমেল হক, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, মাহমুদ নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ আপনারা নাকি ছিলেন। আর কে কে ছিলেন জানি না। দেন আপডেট দেন, কি করলেন এই ৯ মাসে? নাকি সংগঠন আপনাদের কোনো টাইম ফ্রেম বেধে দেয় নাই কতদিনের মধ্যে কি করবেন? কোনো মিটিং মিনিটস নাই, কার সভাপতিতে হহলো কমিটি, কে কমিটির আহ্বায়ক? কে কাকে ফলোআপ করবেন?’

 

‘আচ্ছা মেনে নিলাম একটা ইমারজেন্সি পরিস্থিতিতে তখন গিল্ড আর ইকুইটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে কমিটি করেছেন, পরবর্তীতে তো ওই কমিটির একটা স্ট্রাকচার দাড় করাইতে হবে। না কী সাংগঠনিক এই বিষয়গুলো আমি একজন অসুস্থ মানুষ আপনাদের বলে দেব? এখন যদি কমিটিকে খুঁজতে যান, সেই কমিটিই তো খুঁজে পাবেন না। কে কার কাছে জবাবদিহি করবে? আর ওই দিন হাউজ মালিককে রাহাত ফোন করে সংগঠনে নিয়ে আসেন। এরপর আপনাদের সঙ্গে বসিয়ে দেয়া হয় কথা বলার জন্য। ওই লোকের সামনেই তো কমিটি হলো। এরপর থেকে দেখা হলেই অভিযোগ করেন, আমার পরিবার যোগাযোগ করেনি দেখে আপনারা কিছু করেননি। কি হাস্যকর। এই কথা বলে কোন দায় এড়াতে চান, বুঝি না। আমার পরিবার আপনাদের ফলোআপ করবে না ভাইয়া, গিল্ড আর ইকুইটির এক্সেকিউটিভ বডি ফলোআপ করবে। এটাই তো সাংগঠনিক নিয়ম।’

 

শারমিন আঁখি লিখেছেন, ‘গত ৯ মাস ধরে প্রতি মাসে ৩০/৪০ হাজার টাকা যেখানে আমর চিকিৎসা খরচ, যেই ভয়ংকর মানসিক দুর্যোগের মধ্যে দিয়ে আমার পুরো পরিবার এক একটা দিন পার করছে, যেই ট্রমার মধ্যে দিয়ে আমি আর রাহাত সব সামলে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছি। কীভাবে আশা করেন এত বড় একটা দুর্ঘটনার পর খুব ক্ষতিপূরণ চাই বলে বারবার আপনাদের কাছে যাব?’

 

সবশেষ তিনি লিখেছেন, ‘আমি কোনো বিচার চাই না। আমার অবস্থান আমি পরিষ্কার করলাম আবারও। গণমাধ্যমের অবস্থান ক্লিয়ার এক্সিডেন্টের দিন থেকে। তারা ভিউ চায়, ক্লিক বিট চায়, তারা চাইলে কলমের খোঁচায় দফা রফা করে ফেলতে পারতো। কিন্তু তারা সেটা করেনি। তাই তাদের কাছে কোনো প্রত্যাশা নেই। সহকর্মীদের অবস্থান ক্লিয়ার, সহমর্মিতা দেখাবে, কিন্তু প্রতিবাদ করবে না। আমার চামড়ার দাম তো কম, চামড়ার বাজার মূল্য প্রতি প্রজেক্ট ৭০/৮০ হাজার হলে দৃশ্যপটই ভিন্ন হতো। কিন্তু সংগঠনের আসলে অবস্থানটা কি, আমি ক্লিয়ার না। কিসের ভয় নিজ উদ্যোগে হাউজ মালিককে ডেকে তার গাফিলাতির জন্য ক্ষমা চাওয়ানো হলো। চাওয়া তো এইটুকুই। এতটুকু করতে পারছেন না। এটা করতে কমিটি লাগে? জুজুর ভয়টা কোথায়?’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত২৮ জানুয়ারি মিরপুরের একটি শুটিং হাউজে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন অভিনেত্রী শারমিন আঁখি। ওই দিন তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণে তার হাত-পা, চুলসহ শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্লাজমাও দিতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরন। তবে বাসায় ফিরলেও এখনো কাজ শুরু করেননি এ অভিনেত্রী।

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares