ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি

প্রকাশিত: 9:15 AM, October 31, 2023

ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি

 

জাতীয় ডেস্ক:
সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন নিয়ে এতদিন বিএনপি দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করলেও এবার রাজধানী কেন্দ্রীক কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের ডাক দেয় দলটি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে বিএনপি।

শনিবার মহাসমাবেশে হামলার প্রতিবাদে রোববার একদিনের হরতাল পালনের পরই আজ মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।

তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি শেষ হলে আবারও নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। নতুন কর্মসূচির মধ্যেও থাকবে অবরোধের মতো কর্মসূচি। এ অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকাকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপিসহ সমমনা ৩৭ দলের। তবে সময় ও পরিস্থিতি বুঝে ‘ঢাকা ঘেরাও’ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে বিরোধী দলগুলোতে। অবশ্য বিএনপির সঙ্গে প্রকাশ্যে সমমনা দল না হয়েও তিন দিন দেশজুড়ে অবরোধের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

এদিকে বিএনপি-জামায়াতের একদিনের হরতাল পালন শেষে তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ার কারণে জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ কাজ করছে।

জানা গেছে, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর অর্ধশতাধিক মামলা, হাজারের ওপর নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি তল্লাশি অভিযানে ঢাকার নেতাকর্মী অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সরকার ঢাকাকেন্দ্রিক সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। তাই শুরুতে অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে সারাদেশ থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এতে সব ধরনের যানবাহন আসা-যাওয়া বন্ধ করা হবে, যার প্রভাব সর্বত্র পড়তে থাকবে। এরই মধ্যে ঢাকার সাংগঠনিক সক্ষমতাকে গুছিয়ে, নেতাকর্মীকে সংগঠিত করে দু-একদিনের মধ্যেই ঢাকামুখী কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে সংবাদপত্রের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার গাড়ি ও জরুরি ওষুধ পরিবহন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মহাসমাবেশে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা ও গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তারা জনগণকে ভয় পায়। মানুষের ভোটাধিকার আর বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকায় আন্দোলন গড়ে তুলতে এতদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংগঠিত দুই মহানগরের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো ঢাকাকে অচল করতে সর্বাত্মক আন্দোলনে যেতে বিভিন্ন ইউনিটকে দায়িত্ব দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। একজন নেতার অবর্তমানে আরেকজনকে সামনে আনার সিদ্ধান্তও রয়েছে। নেতাকর্মী যাতে কোনোভাবেই মাঠ ছেড়ে না দেয়, সে জন্য সরাসরি কথা বলছেন দলের হাইকমান্ড।

সূত্র জানায়, এবারের আন্দোলনে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে মাঠে থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নেতা। তাদের মনিটর করার জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন তদারকি সেল কাজ করতে শুরু করেছে। গ্রেপ্তার এড়িয়ে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে থাকতে, কর্মসূচি সফল করতে যা যা করা দরকার, তা করতে বলা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আদর্শ ও ন্যায়ের সংগ্রাম কখনও পরাজিত হয় না। চক্রান্তকারী নিষ্ঠুর সরকারের পতন অত্যাসন্ন।

এদিকে গত শনিবার মহাসমাবেশে সংঘর্ষের ঘটনা ছিল বিএনপির জন্য অপ্রত্যাশিত। আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনায় একদিকে তারা যেমন হতবিহ্বল, তেমনি ক্ষয়ক্ষতি এবং চাপও অনেক। কয়েক হাজার নেতাকর্মী আহত এবং হাজারের ওপর হয়েছেন গ্রেপ্তার। এখন অর্ধশত মামলায় নেতাকর্মী দিশেহারা। দলের সব নেতাকর্মী এখন পলাতক। এমন অবস্থায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, সমাবেশ পণ্ড করা থেকে শুরু করে প্রতিটি ঘটনা সরকারের ছক অনুযায়ী হচ্ছে। এখানে বিএনপি চাইলেও আর শান্তিপূর্ণ পথে কোনো কর্মসূচিতে যেতে পারবে না। যদিও এতে সরকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, বিএনপির আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে সহিংসতা এড়িয়ে সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করেছে। এবারও তারা মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে সারাদেশের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন। তবে সরকারের পরিকল্পনামতো সংঘর্ষের ঘটনা সৃষ্টি করে বিএনপিকে সেই শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরিয়ে রাজপথের কঠোর অবস্থানে নিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে দলের কয়েকজন নেতা জানান, সেদিন মহাসমাবেশের স্থান থেকে কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মী সকাল থেকেই বাধাবিঘ্ন এড়িয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হয়েছেন; সমাবেশ সফল করেছেন। মহাসমাবেশের জন্য প্রশাসনকে দেওয়া চিঠিতেও নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত স্থান চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সংঘর্ষের স্থান আরও অনেক দূরে। সেখানে বিএনপির কোনো মাইক ছিল না, কোনো তদারকি ছিল না। তাহলে সেই দায়ভার বিএনপির ওপরও আসার কথা নয়।

গত ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে বিএনপি। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা দেশ-বিদেশে উপস্থাপন করতে দলের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে কমিটি করেছে দলের হাইকমান্ড। তারা স্থিরচিত্র, ভিডিও, গণমাধ্যমের খবরসহ নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন।

সূত্র জানায়, পুলিশের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। এতে কেন্দ্রীয় নেতা, আইনজীবীও আছেন। তারা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্রসহ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছেন। এ ছাড়া পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে অন্যান্য মাধ্যম থেকেও তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছে।

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

0Shares