জাতিসংঘের কাছে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করতে চায় সরকার

প্রকাশিত: 9:27 AM, November 12, 2023

জাতিসংঘের কাছে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করতে চায় সরকার

 

প্রতি ৫ বছর পরপর বিশ্বের সব রাষ্ট্রের মানবাধিকার কাঠামো পর্যালোচনার নাম ইউপিআর। সবশেষ ২০১৮ সালে ইউপিআর’র কাছে সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরে বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে ১৭৮ পরামর্শ দেয় জাতিসংঘ। কতগুলো পরামর্শ আমলে নিয়েছে বাংলাদেশ, এ নিয়ে সোমবার (১৩ নভেম্বর) জেনেভায় বসছে বাংলাদেশ, মুখোমুখি হবে সওয়াল জবাবের।

জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান সরকার দুর্নীতি কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, এমনকি বিচার বিভাগের মতো সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করছে।

তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ সরকার। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন পক্ষপাতমুক্ত এবং সক্ষম নির্বাচন কমিশন গঠন নিশ্চিত করবে এবং এটি উপমহাদেশে প্রথম এ রকম কোনো আইন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ নির্বাচনকালে নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে জানিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের পর থেকে কমিশন ৬ হাজার ৮৪২টি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। তবে নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে, বিশেষ করে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাতের বেলায় ব্যালট বাক্স ভর্তির যে অভিযোগ আছে, সে সম্পর্কে এতে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশে সরকার থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হয়ে যাওয়ার বয়স খুব বেশি নয়। একটি দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে পরিপক্ব হতে কিছু সময় দিতে হয়। সময়ের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের দেয়া রিপোর্টে সরকার দাবি করে, একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য করতে। এছাড়াও একাধিক আইন সংস্কার, আধুনিকায়ন এবং মানসম্মত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগে ৯ জন ও হাইকোর্ট বিভাগে ৩৬ জন বিচারপতিকে নিয়োগ এবং ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৫০টি মামলার সুরাহা হওয়ার তথ্য প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অবশ্য ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের সূচকে বাংলাদেশে আইনের শাসনের মান তলানিতে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্বের কথা বলে আসছে।

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, অগ্রগতি হয়েছে লোক দেখানো। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মৌলিক যে জায়গাগুলো সেখানে খুব একটা পরিবর্তন হয়ে এটা বলার সুযোগ নেই। মানবাধিকারের বিশেষ করে বাক-স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা- এই ধরনের স্বাধীনতার ক্ষেত্রগুলো কেন্দ্র করে যে উদ্বেগের জায়গাগুলো ছিলো সেগুলো রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জাতীয়ভাবে যে ইস্যুগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকি সেই ইস্যুগুলোকেই আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের রাষ্ট্রকে শুনতে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। ইফতেখারুজ্জামান দাবি করেন, গুণগত উন্নয়ন হলে বিদেশে গিয়ে ছোট হতে হতো না বাংলাদেশকে।

তবে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক পরামর্শ দিলে শুনতে বাধ্য নয় সরকার দাবি প্রতিমন্ত্রীর। তিনি বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এরকম কিছু বিষয় বিশ্বে এখন চলছে। যেমন- এলজিবিটি, ফাঁসি। এ বিষয়গুলো আমরা কখনও নিতে পারি না সামনেও নিবো না। কিন্তু আমরা চাই প্রতিবার আমরা যেন আমাদের অবস্থান থেকে আরেকটু এগিয়ে যাই।

তবে নির্বাচনের আগে এবার ইউপিআর খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ইউপিআরের ১৭৮টি সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে সরকারের মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। তৃতীয় ইউপিআরে বাংলাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে ১৬৭টি সুপারিশ গ্রহণ করেছিল, ৬০টি সুপারিশে সম্মতি দেয়নি এবং ২৪টি সুপারিশ বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিল।

ওই সব সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতির কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে ২০২৩-২৫ মেয়াদে সদস্য পদে সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হওয়াকে মানবাধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জন্য তহবিল বরাদ্দ গত পাঁচ বছরে ৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি ও জনবল বৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়, কমিশন এ সময়কালে ৩ হাজার ৬৬৬টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছে। র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার আইন ২০০৯ সালের ধারা ১৮-এর শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর সংকীর্ণ ব্যাখ্যা গ্রহণের কথা এতে বলা হয়েছে।

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

0Shares