সিলেট [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
প্রকাশিত: 10:01 AM, December 31, 2023
অর্থনীতি ডেস্ক:
বছরজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে চলা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। সুদের হার বৃদ্ধি, চাকরিচ্যুতি, জ্বালানি অস্থিরতা, সর্বক্ষেত্রে ঋণ, পণ্য পরিবহনে জটিলতা এবং জিডিপির গ্রাফের আঁকিবুকি মনে করিয়ে দিচ্ছিল এক যুগ আগের পরিস্থিতিকে। আগামী বছর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন চির অধরা রয়ে যায় কিনা তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
যুদ্ধের ডামাডোলে পুড়ছে বিশ্ব, পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে অর্থনীতি। যার পরিণতিতে আর্থিক খাতে বছরজুড়ে ছিল অস্থিরতা। সব সূচকের নেতিবাচকতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুখ থুবড়ে পড়া, চাকরিচ্যুতি, দেউলিয়াত্ব, জ্বালানি রাজনীতি আর কালো মেঘ সরিয়ে অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ের ঘোষণা এখন ধোঁয়াশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বছর শুরু থেকেই চলে ব্যাংক খাতের আলোচনা। ২০২২ এর মার্চ থেকে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির দৌড়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও মে মাসে পরপর তিনবার সুদের হার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ ঠেকায় বাইডেন সরকার। এরপরই যেন অস্থিরতা শুরু হয় প্রতিটি খাতে। বন্ধ হয়ে যায় সিলিকন ভ্যালি, সিগনেচার, ফাস্ট রিপাবলিক ব্যাংকের মতো ছোট পরিসরের ব্যাংকগুলো।
আঘাত আসে আটলান্টিকের অন্য পাড়ের মহাদেশ ইউরোপেও। ইউরোজোনের সুদের হার সাড়ে ৪ পৌঁছায়। প্রায় প্রতিটি দেশই মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে নানা কার্যক্রম নিলেও আদৌতে তা কাজে আসেনি।
তেলের তেলেসমাতি চলেছে বছরজুড়ে। রাশিয়ার ওপর সব ধরনের আর্থিক ও জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার উল্টো ফল দেখে বিশ্ব। ওপেক ও ওপেক বর্হির্ভূত দেশগুলো নিজেদের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি অবস্থানে তৈরি হয় শঙ্কা। রাশিয়ার জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপ ভর করলেও শেষ ঠাঁই সেই রাশিয়াতে।
এলএনজি আর তেলের আমদানি ভিন্ন উপায়ে করে বছরের শেষ সময়ে শীত সামাল দেয়ার চেষ্টায় ইউরোপ। আর চীন, ভারত ও আফ্রিকার মতো দেশগুলো কম দামে তেল পেয়ে নিজেদের অবস্থান করেছে শক্ত। শেষদিকে এসে গোল্ডম্যান স্যাক্সের প্রক্ষেপণে পানি ঢেলে দেয় এই জ্বালানির বাজার। আপাতত, শতকের ঘরের আশপাশেও নেই তেলের দর।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইসরায়েল-হামাসের হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। যার ছোঁয়া টের পাওয়া যায় বিশ্বজুড়ে। সুয়েজ খাল আর লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বাধা নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এতে বেড়েছে অস্ত্রের ব্যবসার পরিমাণ। ছিল চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ। এআইয়ের উত্থানে পাল্টে যায় ব্যবসার পরিবেশ। শেয়ারবাজার, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার উত্থানের চেষ্টা ছিল বছরজুড়ে।
আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়ানো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও চাপে পড়ে। ডিজিটাল দুনিয়ার জালিয়াতি আর যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের হার ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। তবে রাজনীতিবিদদের হাত পড়ে তা বেঁচে যায়।
তেলের রাজনীতি আর ব্যাংকের গ্যাঁড়াকলে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো রেকর্ড সাড়ে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের সুদের ফাঁদে পড়ে। ২০২২ সালের তুলনায় যা ৫ শতাংশ বেশি। আর শুধু ঋণের সুদের হার আগামী বছর বিশ্বজুড়ে ৩৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবু আশার বাণী ছড়িয়ে নবদিগন্তে নতুন বছরের সূর্য্য উঠবে। অর্থ অনর্থ করবে কিনা তা সময়েই বলে দেবে।
R/N
Administrative Contact:
Name: Fatama Akter Shiuly
Address: Sheikhghat Sylhet.
Postal Code: 3100
Email: siuliakter571@gmail.com
Phone: 880 1760275449
প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী
Users Today : 11
Users Yesterday : 7
Users Last 7 days : 134
Users Last 30 days : 485
Users This Month : 485
Users This Year : 485প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী Phone: 880 1760275449
