ওমরায় আগ্রহ বাড়ছে, কমছে হজে

প্রকাশিত: 12:18 PM, January 20, 2024

ওমরায় আগ্রহ বাড়ছে, কমছে হজে

 

মুসলিমদের জন্য আবশ্যকীয় ইবাদত হজ, ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। সামর্থ্যবানদের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলিম পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এরমধ্যে কিছু সরকারি ব্যবস্থাপনায় মক্কায় যান। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ও হজ পালনের সুযোগ রয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন (১৪৪৫ হিজরি সনের ৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছর (২০২৪ সাল) বাংলাদেশ থেকে হজ করতে পারবেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেতে পারবেন ১০ হাজার ১৯৮ জন। আর বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যেতে পারবেন ১ লাখ ১৭ হাজার জন। অন্যবারের মতো গত ৮ জানুয়ারি চলতি বছরে হজ পালনে সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় বাংলাদেশের।

তবে প্যাকেজ মূল্যসহ নানা কারণে বাংলাদেশিদের হজে আগ্রহ কমছে। বিপরীতে ওমরায় আগ্রহ বাড়ছে। এ বছরের হজ নিবন্ধনেও যেন এ বিষয়টিই উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) অর্ধেকের বেশি কোটা খালি রেখে হজ নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। পরপর দুই দফায় সময় দিয়েও পূর্ণ করা যায়নি কোটা। যেখানে এ বছর এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ করার অনুমতি দিয়েছিল সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রণালয়।

পবিত্র হজ পালনে গত ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয় নিবন্ধন। যার শেষ সময় ছিল গত ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে কোটা পূর্ণ না হওয়ায় প্রথম দফায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় বেঁধে দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবে এতেও কোটা পূর্ণ না হওয়ায় আরেক দফায় সময় বাড়ানো হয়। যা শেষ হয় গত ১৮ জানুয়ারি। ওইদিন ৫৮ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি কোটা খালি রেখে হজ নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করার কথা জানায় মন্ত্রণালয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের সময় আরও বাড়ানো যেতো কিন্তু সংখ্যা জানাতে দেরি হলে মিনায় তাঁবু অনেক দূরে নিতে হবে। এ কারণে নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গত ১৫ নভেম্বর নিবন্ধন শুরুর পর থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত হজের নিবন্ধন করেছেন ৫৩ হাজার ১১৫ জন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৮০২ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৯ হাজার ৩১৩ জন নিবন্ধন করেছেন। তবে হজ চুক্তি অনুযায়ী, এখনো ৭৪ হাজার ৮৩টি কোটা ফাঁকা রয়েছে। ফলে মোট কোটার ৫৮ শতাংশ খালি রেখেই শেষ হয়েছে হজ নিবন্ধন কার্যক্রম।

অন্যদিকে, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে সরকার। এরমধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। আর বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ও প্যাকেজ দুটির মূল্য খুববেশি তারতম্য নেই। বেসরকারিভাবে হজে গেলে প্যাকেজ দুটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা ও আট লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা।

তবে গতবারের চেয়ে এবার সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য এক লাখ ৪ হাজার ১৬০ টাকা কমানো হয়েছে। যদিও গতবারও হজ নিবন্ধনে একই পরিস্থিতি ছিল। ২০২৩ সালেও কোটার বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নিবন্ধন কম ছিল। কিন্তু এবারের সংখ্যা গতবারের তুলনায় অনেক কম।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এস শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘এ বছর হজ খরচ গতবারের তুলনায় এক লাখ টাকার মতো কমলেও করোনার আগের তুলনায় অনেক বেশি। আর তার বিপরীতে ওমরাহ খরচ অনেক কম। সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার মধ্যে একজন ওমরাহ করতে পারেন। ফলে খরচ বাঁচাতে অনেকেই এখন ওমরাহর দিকে ঝুঁকছেন।’

তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে হজ নীতিতে অনেক পরিবর্তন এনেছে সৌদি আরব, যার ফলে খরচও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই মুসলিম দেশ থেকে হজযাত্রী নেবে। আবার অমুসলিম দেশ থেকেও সৌদি আরব এখন অনলাইনে সরাসরি হজযাত্রী নিচ্ছে। এমনকি ওমরাহ নিবন্ধনও অনলাইনে করে ফেলেছে। ভবিষ্যতে হয়তো একইভাবে হজ নিবন্ধনও অনলাইনেই হয়ে যাবে। তখন কোটা থাকলেও হজ এজেন্সির প্রয়োজন থাকবে বলে মনে হয় না।

প্রকৃতপক্ষে ভবিষ্যতে সৌদি আরব এমন পদক্ষেপ নিলে বিপাকে পড়বে বাংলাদেশি হজ এজন্সিগুলো। বর্তমানে দেশে এক হাজার ২৫০টি হজ এজন্সি রয়েছে। এর বাইরেও ট্র্যাভেল এজেন্টরাও হজযাত্রীদের সৌদি ভ্রমণের প্যাকেজ অফার করে থাকে। তাদের হজযাত্রী কমে গেলেও ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য খরচ প্রায় একই রয়েছে। আবার নির্ধারিত তিনটি এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রিও কমে যাবে। সবমিলিয়ে হজ ও ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ আশঙ্কা থেকে ইতোমধ্যেই কোনো কোনো এজেন্সি হজকেন্দ্রিক ব্যবসাও গুটিয়ে নিয়েছে।

অ্যাসোসিয়েন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) মহাসচিব আব্দুস সালাম আরেফ বলেন, ‘২০১৮-১৯ সালের সঙ্গে তুলনা করলে হজের খরচ ৮০ ভাগ বেড়েছে। এটা সব দেশেই। এর সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ায় আরও খরচ বেড়েছে। একজনের হজের খরচ দিয়ে ছয়জন ওমরাহ করতে পারেন। ফলে ওমরাহর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এখন বছরে পাঁচ লাখ মুসলমান ওমরাহ করতে যান।’

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবে এখন বাসাভাড়া বেড়ে গেছে, ১৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়েছে। সেখানে অনেক বাড়ি ভেঙে ফেলায় বাড়ি ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। সব খরচই বেড়েছে। তারপরও আমরা এক লাখ টাকা গত বছরের তুলনায় কমিয়েছি। আর কমানো সম্ভব নয়।’

R/N

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares