সিলেট [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
প্রকাশিত: 12:32 AM, September 5, 2024
অনলাইন ডেস্ক:
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চমেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান। গতকাল মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) আলাউদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, উপাচার্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। চিকিৎসক পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব ছাড়ার আগে এমবিবিএস–সহ সব পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে যান। তাঁর ওপর রাজনৈতিক কোনো চাপ ছিল না বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
গত বছর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খানের নিয়োগ অনুযায়ী বেতন স্কেল তৃতীয় গ্রেডের। কিন্তু তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রথম গ্রেডের বেতন নেন তিনি। শুধু তা–ই নয়, নিজের বেতন বৃদ্ধির এই বিষয়টি সিন্ডিকেট থেকে পাস করিয়েও নিয়েছিলেন। এ ছাড়া নিজের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন উপাচার্য, যা সঠিক হয়নি বলে মত দিয়েছিল ইউজিসি।
এ নিয়ে ওই বছরের ২৫ জুন আজকের পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপপরিচালক (বাজেট) মো. হাফিজুর রহমানের সই করা ওই পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান থেকে আহরিত বেতন–ভাতাদির সমপরিমাণ অর্থ মাসিক বেতন হিসেবে প্রাপ্য হবেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নিয়ম পরিবর্তন করে তাঁর বেতন প্রথম গ্রেডে উন্নীত করে। এই এখতিয়ার সিন্ডিকেটের নেই।
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ইসমাইল খান প্রথম গ্রেডে মূল বেতন পান ৮৩ হাজার টাকা। আর ভাতাসহ তিনি পান মোট প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। অথচ তাঁর তৃতীয় স্কেলে মূল বেতন হয় ৭৪ হাজার টাকা। এ অবস্থায় এলপিসি অনুযায়ী তাঁর বেতন নেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করে ইউজিসির পর্যবেক্ষণ দল।
ইউজিসির পর্যবেক্ষণে উঠে আসা চমেবির আর্থিক অনিয়মের আরেকটি হলো অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ছয় কর্মচারীকে উচ্চতর স্কেলে বেতন দেওয়া। এতে প্রতি মাসে মূল বেতন ৫২ হাজার টাকাসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রায় আড়াই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউজিসি।
তাঁদের বিষয়ে ইউজিসির দলের পর্যবেক্ষণ হলো, অ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্তরা সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করেন। তাঁদের উচ্চতর স্কেলে বেতন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তাঁদের কোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিজ্ঞতার কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি। এ ধরনের কাজকর্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট করে।
এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন ও ডিপিপি–সংক্রান্ত সমন্বয় সভার ব্যয় বাবদ রাজস্ব খাত থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়। এতেও নিয়মের ব্যত্যয় এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ইউজিসির দল। তাঁরা মতামত দেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো প্রকার অর্থ রাজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া যাবে না। এরপরও রাজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করায় আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য ইসমাইল খান আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘২০১২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে বেতন স্কেল গ্রেড-৩-তে ফার্মাকোলজি বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলাম। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ ও ডিন হিসেবে যোগদান করি। সব মিলিয়ে আমার প্রোফেশনালিজম অনেক বছরের, সে জন্য প্রথম গ্রেডে বেতন নেওয়ার যোগ্যতা রাখি।’
উপাচার্য বলেন, ‘ইউজিসি ২০২১-২২ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে চিকিৎসা বাবদ ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। সেটি আমি খরচ করি। এই সব বিষয়ে ইউজিসিকে লিখিত আকারে জানিয়েছি।’
তবে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর আজকের পত্রিকাকে বলেন, তৃতীয় গ্রেডে নিয়োগ হয়েও প্রথম গ্রেডে বেতন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেটে পাস করলেও পারা যায় না। এলপিসি অনুযায়ী বেতন নিতে হবে। এই নিয়ম না মানলে অবশ্যই অনিয়ম হয়েছে।
Administrative Contact:
Name: Fatama Akter Shiuly
Address: Sheikhghat Sylhet.
Postal Code: 3100
Email: siuliakter571@gmail.com
Phone: 880 1760275449
প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী
Users Today : 1
Users Yesterday : 11
Users Last 7 days : 117
Users Last 30 days : 591
Users This Month : 591
Users This Year : 591প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী Phone: 880 1760275449
