বৃষ্টিতেও স্থিতিশীল সিলেটের সবজি বাজার, স্বস্তিতে ক্রেতারা

প্রকাশিত: 12:54 PM, June 13, 2026

বৃষ্টিতেও স্থিতিশীল সিলেটের সবজি বাজার, স্বস্তিতে ক্রেতারা

সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত সপ্তাহজুড়ে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হলেও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি স্থানীয় শাকসবজির বাজারে। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতেও সবজির দাম রয়েছে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। বর্ষার শুরুতে সাধারণত সবজির দাম চড়া থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে।

সরেজমিনে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ, পটল, বেগুন ও ঢ্যাঁড়সসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। উল্টো পটল, কচুর লতি, শসা ও মিষ্টি কুমড়ার দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পটল ৩১-৩৫ টাকা, বেগুন ৪৫-৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪৫-৫৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪০ টাকা, করোলা (উঁচ্ছে) ৪০-৪৫ টাকা, ঝিঁঙে ৩৫-৪০ টাকা এবং কাঁচাকলা প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুঁইশাক প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেও বাজারদর ঠিক এমনটাই ছিল।

টুকেরবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা ফুল মিয়া বলেন, “বৃষ্টি হলেও এবার আড়ৎ ও পাইকারি বাজারে সবজির আমদানি প্রচুর। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণেই দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত যদি একটানা চলতেই থাকে, তবে সামনে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।”

লায়েস আহমদ নামের এক সবজি ব্যবসায়ী জানান, বিগত বছরগুলোর মে-জুন মাসের তুলনায় এবার সবজির দাম বেশ নাগালের মধ্যে রয়েছে। অন্য বছর এই সময়ে বাজারে সবজির দাম চড়া থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

এদিকে শহরের বাইরের বাজারগুলোতে দাম কম থাকায় ছুটির দিনে অনেকেই প্রান্তিক বাজার থেকে বাজার করছেন। টুকেরবাজারে আসা আকতার নামের এক ক্রেতা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “শাকসবজির দাম বেশ কম এবং নাগালের মধ্যেই আছে। তাই ছুটির দিনে শহরের বাইরে এসে কেনাকাটা করলাম।”

তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের তারতম্য নিয়ে বরাবরের মতোই কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে সবজি প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যাকে স্বাভাবিক বলেই দাবি করছেন বিক্রেতারা।

কিন্তু নগরীর বন্দরবাজারের ক্রেতা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা বা প্রান্তিক বাজারের তুলনায় শহরের বাজারগুলোতে সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক ও শহরের বাজারের এই বড় ব্যবধান দূর করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা উচিত। প্রশাসন নজর দিলে সাধারণ ভোক্তারা আরও উপকৃত হবেন।”

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares