এ কে আজাদ:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ভূমি অফিসের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রমে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন করতে আসা বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অফিস সহকারী অসিম চন্দ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে বিভিন্ন অজুহাতে আবেদনপত্রের কার্যক্রম বিলম্বিত করা হয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া আবেদনকারীদের গুরুত্বপূর্ণ মূল দলিলপত্রও আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে উপজেলার অনেক সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হয়েছেন। মূল দলিলপত্র ও অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে তারা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেছেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে সিলেটের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, নামজারির কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে অফিস সহকারী অসিম চন্দকে নগদ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার নামজারির আবেদন বাতিল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মূল দলিলপত্র ও প্রদত্ত অর্থ ফেরত চাইতে গেলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মো. দেলোয়ার হোসেন তার মূল দলিলপত্র ও অর্থ ফেরত, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী অসিম চন্দ বলেন, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছেন। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলুন। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ভুক্তভোগীরা প্রত্যাশা করছেন।