গানে সিলেটের মাটির কথা—ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরীর অন্যরকম জীবনগল্প
শিউলী আক্তার:
একজন মানুষ, দুটি ভিন্ন জগৎ। একদিকে চিকিৎসক হিসেবে মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব, অন্যদিকে সিলেটের আঞ্চলিক ও মরমী গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া। চিকিৎসা ও সংগীত—দুই অঙ্গনেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী।
ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সিলেটের লোকসংগীত অঙ্গনে ‘অচিনপুরী’ নামে পরিচিত। পেশাগত জীবনে তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও রেটিনা চিকিৎসক হিসেবে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারী/সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেটের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শৈশব থেকেই গভীর। বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বেতসান্দি গ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার একটি বিস্তারিত জীবনকথায় তাঁর জন্ম সুনামগঞ্জের ছাতক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে—তাই জন্মস্থান নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। নিউজ প্রকাশের আগে পরিবারের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
চিকিৎসার পাশাপাশি সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। ২০০৫ সালের দিকে তিনি গান গাওয়া শুরু করেন। শুরুতে ‘জহির কানাই’ নামেও পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে ‘অচিনপুরী’ নামেই শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ২০১০ সালের দিকে তিনি গান লেখা শুরু করেন এবং নিজেই গান লেখা ও সুর করার চর্চা করেন। তাঁর গানে উঠে আসে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা, সমাজের নানা অসংগতি এবং মানুষের জীবন-বাস্তবতার কথা।
শুধু চিকিৎসা ও সংগীত নয়, মানবিক কাজেও যুক্ত হয়েছেন ডা. জহিরুল ইসলাম। ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর তাঁর উদ্যোগে ‘অচিনপুরী ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা, ঘর নির্মাণ, শিশুদের শিক্ষা, অসহায় পরিবারকে সহায়তা এবং দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করেছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।
এর আগে ১৯৯৯ সাল থেকেই তিনি দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে চক্ষুসেবা এবং অস্ত্রোপচারের উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসাকে তিনি শুধু পেশা হিসেবে নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবেও দেখেছেন।
সিলেটের আঞ্চলিক গানকে মানুষের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি চিকিৎসা পেশায় দায়িত্ব পালন—দুটি ভিন্ন জগতকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরীর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
চোখের চিকিৎসক হিসেবে তিনি মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় কাজ করছেন, আর ‘অচিনপুরী’ হয়ে গানের মাধ্যমে তুলে ধরছেন নিজের শেকড়, মাটি ও মানুষের কথা। এভাবেই চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম ও শিল্পী অচিনপুরী—দুটি পরিচয় মিলেমিশে তৈরি করেছে তাঁর আলাদা এক জীবনকাহিনি।
বর্তমান সময়েও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২০২৬ সালেও তাঁকে নিরাপদ যাতায়াত ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে।