এ কে আজাদ:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র উৎমা ছড়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই পর্যটন স্পটে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের আগমন ঘটে। তবে সৌন্দর্যের আড়ালে এখানে পর্যটকদের কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে এমনই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
ঈদের চতুর্থ দিন রোববার (৩১ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটন স্পটের আশপাশে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি আগত পর্যটকদের কাছে গিয়ে মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের প্রস্তাব দিচ্ছেন। পরে কয়েকজন পর্যটককে তাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং স্পটসংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবন করতেও দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পর্যটকদের টার্গেট করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। তারা আশপাশের এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে পর্যটকদের কাছে সরবরাহ করে থাকে। ফলে একদিকে পর্যটন এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে টুরিস্ট পুলিশের কোনো উপস্থিতি নেই। দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে জরুরি মুহূর্তে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, যাত্রীছাউনি ও বিশ্রামাগারের অভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উৎমা ছড়াকে নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে হলে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, টুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, মোবাইল নেটওয়ার্কের উন্নয়ন এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভয়েজ অব এ কে আজাদ’ নামের একটি আইডি থেকে ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন কর্মকার বলেন, “ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য খ্যাত উৎমা ছড়াকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সচেতন মহল।