পানতুমাই-মায়ামতি ঝরনা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায়ে একাধিক চক্র সক্রিয়

প্রকাশিত: 10:47 PM, June 12, 2026

পানতুমাই-মায়ামতি ঝরনা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায়ে একাধিক চক্র সক্রিয়

এ কে আজাদ,গোয়াইনঘাট:

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পানতুমাই মায়ামতি ঝরনা সংলগ্ন এলাকায় মাতুরতল, সোনারহাট ও ভাদেশ্বরে চলছে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন এতে পরিবহনের একটি বিস্তৃত চক্র রয়েলিটির নামে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় রয়েছেন বলে সিলেটের সংবাদের অনুসন্ধানী টিমের তদন্তে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনে রয়েলিটির নামে অর্থ আদায় করা হলেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। এতে ঝরনাসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সড়ক ও সরকারি অবকাঠামো।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,পানতুমাই ঝরনা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রথমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এরপর ট্রাক্টরের মাধ্যমে সেই বালু মাতুরতল বাজারসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে সাময়িকভাবে জমা করা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে হাইড্রোলিক ট্রাকে লোড করে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বালুবাহী যানবাহন বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে অর্থ প্রদানে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, তারুখাল সরকারি মাদ্রাসা সংলগ্ন যাত্রীছাউনির কাছে একটি চক্র প্রতি গাড়ি থেকে ‘ইউনিয়ন ট্যাক্স’ নামে ২০০ টাকা করে আদায় করছে। এরপর পরগনা বাজার এলাকায় পৌঁছালে আরেকটি গোষ্ঠী ‘রয়্যালটি’ নামে প্রতি গাড়ি থেকে ৬০০ টাকা করে অর্থ আদায় করছে। এসব অর্থ আদায়ের বিনিময়ে বালুবাহী যানবাহনের জন্য বৈধতার মতো রশিদও প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বালু পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ‘বিজিবির লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে অর্থ আদায় করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয়ভাবে, বাসার, বিলালসহ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

ভারী বালুবাহী যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে মাতুরতল বাজার থেকে পানতুমাই গ্রাম হয়ে মায়ামতি ঝরনা পর্যন্ত সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বছর আগে সংস্কার করা এই সড়কে ইতোমধ্যে বড় বড় গর্ত, ফাটল ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে সরকারি কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো অল্প সময়েই সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় পানতুমাই গ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর গ্রাম হিসেবে পরিচিত ছিল। পাহাড়, নদী ও ঝরনার অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত এই এলাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ছিল আকর্ষণীয় গন্তব্য। কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলন, পরিবেশ ধ্বংস এবং সড়ক অবকাঠামোর অবনতির কারণে সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।

প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনের মাধ্যমে বালু পরিবহন চললেও কার্যকর অভিযান না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও অর্থ আদায়ের চক্রগুলো কার নিয়ন্ত্রণে চলছে?

এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত সব চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং পানতুমাই ও মায়ামতি ঝরনা রক্ষায় জরুরি প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই পর্যটন অঞ্চল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ স্থায়ীভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares