সিলেট [english_date] | [bangla_date] | [hijri_date]
প্রকাশিত: 12:25 PM, June 15, 2026
সিলেট শুধু একটি অঞ্চল নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির এক শক্তিশালী ভিত্তি, প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস, চা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবার সংকট, শিক্ষার প্রসারে প্রতিবন্ধকতা এবং বারবার বন্যার দুর্ভোগ এই সম্ভাবনাময় জনপদের অগ্রযাত্রাকে ধীর করে রেখেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের জাতীয় বাজেটে সিলেটের জন্য রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী ঘোষণা। আর এই উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটের উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা সামনে এসেছে, তা কেবল কয়েকটি প্রকল্পের তালিকা নয়; এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের এক সুদূরপ্রসারী নকশা।
এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে। ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়ক দ্রুত বাস্তবায়ন, সিলেট-তামাবিল সড়ক উন্নয়ন এবং রেলওয়ে অবকাঠামোর আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে সিলেটের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন সহজ হবে, তেমনি বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদিরের উন্নয়ন দর্শনের বিশেষত্ব হলো—তিনি শুধু সড়ক ও দালানকোঠা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি উপলব্ধি করেছেন, একটি অঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন আসে মানুষের জীবনমানের উন্নতির মধ্য দিয়ে। তাই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো সিলেটকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করার মূল ভিত্তি তৈরি করবে।
যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পর্যটন—সব খাতকে একই সুতোয় গেঁথে সিলেটকে আগামী দিনের অর্থনৈতিক হাবে পরিণত করার এক সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
বছরের পর বছর বন্যার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটবাসীর জন্য এবারের বাজেটে রয়েছে বড় স্বস্তির বার্তা। সুরমা-কুশিয়ারাসহ প্রধান নদীগুলোর খনন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা প্রতিরোধ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং হাজারো কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ সিলেটের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটন খাতেও এসেছে নতুন সম্ভাবনার সুবাতাস। জাফলং, রাতারগুল, বিছানাকান্দি ও শ্রীমঙ্গলের মতো বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং পর্যটকসেবা সম্প্রসারণের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু সরকারের রাজস্ব আয়ই বাড়বে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নিঃসন্দেহে বাজেটের এই ঘোষণা সিলেটবাসীকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই আশার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে। যদি ঘোষিত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয় এবং বরাদ্দের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে সিলেট শুধু বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক অঞ্চল হিসেবেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
উন্নয়নের সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। তাঁর হাত ধরে আসা এই রেকর্ড বরাদ্দ শুধু একটি বাজেট নয়, এটি সিলেটের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার এবং একটি নতুন সমৃদ্ধ অধ্যায়ের সূচনা। সময়ই বলে দেবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তবে সিলেটের উন্নয়নের ইতিহাসে এই বাজেট এবং খন্দকার মুক্তাদিরের ভূমিকা দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Administrative Contact:
Name: Fatama Akter Shiuly
Address: Sheikhghat Sylhet.
Postal Code: 3100
Email: siuliakter571@gmail.com
Phone: 880 1760275449
প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী
Users Today : 5
Users Yesterday : 21
Users Last 7 days : 173
Users Last 30 days : 356
Users This Month : 356
Users This Year : 356প্রধান সম্পাদক: ফাতেমা আক্তার শিউলী Phone: 880 1760275449
