“গোয়াইনঘাটে বিয়ের দাবিতে ১৯ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান”

প্রকাশিত: 1:51 PM, June 23, 2026

“গোয়াইনঘাটে বিয়ের দাবিতে ১৯ দিন ধরে তরুণীর অবস্থান”

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া উত্তর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ি ও তার চাচার ঘরে ১৯ দিন ধরে অবস্থান করছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। গত ৩ জুন বিকেল থেকে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের কয়েছ মিয়া ও তার চাচা ইসলাম উদ্দিনের ঘরে বিয়ের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তবে এরই মধ্যে অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন প্রেমিক কয়েছ মিয়া। কয়েছ মিয়া উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বগাইয়া গ্রামের হাজী রফিক উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। গত ৩ জুন বিয়ের দাবিতে তরুণীর প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থানের খবর পেয়ে পরদিন ৪ জুন অন্যত্র বিয়ে করে নববধূকে নিয়ে বাড়িতে আসেন কয়েছ।

ভুক্তভোগী তরুণী সিলেটের সংবাদকে জানান, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কয়েছ। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হলেও অনুষ্ঠান কমিউনিটি সেন্টারে হবে নাকি বাড়িতে হবে এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিয়ে ভেঙে দেয় কয়েছের পরিবার।

তরুণীর অভিযোগ, এরপর থেকেই কয়েছ মোবাইল ফোনে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তোলেন কয়েছ। প্রেমের সম্পর্কের পাশাপাশি সিলেট শহরে নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন এবং আপত্তিকর ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন। কয়েক মাস পর কয়েছ তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

পরে তরুণীর মা-বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ অবস্থায় কয়েছের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে পরিবারের কথায় রাজি হয়ে এক প্রবাসীর সঙ্গে মোবাইলে আকদ (বিয়ে) সম্পন্ন হয় তার। বিয়ের খবর পেয়ে কয়েছ তাদের প্রেমের সম্পর্ক ও আপত্তিকর ভিডিও ওই প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠান। এতে তার আকদের বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর গত ৩ জুন বিকেলে কয়েছের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন তিনি।

তরুণীর দাবি, তার জীবন ধ্বংস করেছে কয়েছ। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বাড়ি ছাড়বেন না। দাবি পূরণ না হলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অন্যদিকে তরুণীর মা দাবি করেন, বর্তমানে তার মেয়ে বিয়ের দাবিতে কয়েছের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ছেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টির কোনো মীমাংসা করা যাচ্ছে না।

রুস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, গত ৪ জুন দুই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন তিনি। কয়েছ উপস্থিত না থাকায় তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে একটি তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু পরদিন জানতে পারেন, ছেলেটি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। পরে ছেলের পরিবারের সদস্যরা রাজি না হওয়ায় বিষয়টি মেয়ের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টির কী অগ্রগতি হয়েছে, তা তার জানা নেই।

এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া ফোনে বলেন, মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, এটা সত্য। এখন আমার ঘরে আরেক বেটি (বউ) আছে। আপনারা পাবলু মেম্বার ও সাবই মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বিষয়টি সমাধান করবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পাবলু মিয়া জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। মেয়েটির দাবি, কয়েছকে তাকে বিয়ে করতে হবে। অন্যদিকে কয়েছ বিয়ে করতে রাজি নন। এ কারণে সমাধান হয়নি। বর্তমানে মেয়েটি কয়েছের চাচার ঘরে অবস্থান করছেন।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares