, ,

অবৈধ রশিদে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নোভা মিডিয়া সিলেট
প্রকাশিত July 16, 2026, 02:20 PM
অবৈধ রশিদে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নোভা মিডিয়া সিলেট ডেস্ক:

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজারে ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে মাত্র পাঁচ দিনের জন্য অনুমোদন দেওয়া একটি অস্থায়ী পশুর হাট নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ইজারার শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হাট পরিচালনা, বৈধ ইজারাদারের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির নামে রশিদ ব্যবহার এবং প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, ইজারাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় হাটটি অব্যাহতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বৈধ পশুর হাটের ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্মারক নম্বর-০৫.৪৮.৯১৫৩.০০০.১২.০০১.২৬.৩৫৫-এর মাধ্যমে চিকনাগুল বাজারকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত মাত্র পাঁচ দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী হাটটির বৈধ ইজারাদার ছিলেন মসদ্দর আলীর ছেলে ইমদাদুল হক।কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই সরকারি ইজারার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত রশিদে বৈধ ইজারাদারের নামের পরিবর্তে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মেম্বারের নাম ও মোবাইল নম্বর ছাপানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কামরুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশনায় এভাবে রশিদ ব্যবহার করা হয়েছে।

অভিযোগ আরও রয়েছে, পাঁচ দিনের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হাটটি প্রতিদিন বসছে এবং ওই রশিদের মাধ্যমেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না পড়ে অন্যত্র যাচ্ছে, ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা গরু ও মহিষ সহজেই এই বাজারে প্রবেশ করছে। এসব পশুর বিপরীতে রশিদ দেওয়া হওয়ায় সেগুলো কাগজে-কলমে বৈধতার একটি পরিচয় পাচ্ছে। এতে বৈধ ও অবৈধভাবে আনা পশু আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বৈধ পশু ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের পশু ব্যবসায়ী এক ব্যক্তি বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে হওয়ায় ভারতীয় পশু সহজেই এসব বাজারে আনা যায়। এ কারণেই অনেক ব্যবসায়ী এখানে আসেন। তবে পাঁচ দিনের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাজারটি আর বৈধ নয়।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে অবৈধভাবে পরিচালিত এই হাট বন্ধ করে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।এ বিষয়ে পাঁচ দিনের ইজারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইকবাল হোসেনের কাছে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রশিদে যার নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, সেই কামাল মেম্বার বলেন, ‘রশিদে আমার নাম ও মোবাইল নম্বর রয়েছে। পাঁচ দিনের ইজারা নেওয়ার পর স্থানীয় অংশীদাররা সবাই মিলে আমার নাম ব্যবহার করেছেন।’ হাট এখনও চলমান থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সব বিষয় চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী ম্যানেজ করেন। ‘অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে নিউজ করার দরকার নেই। সরাসরি দেখা হলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’ এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, ‘জেনেছি চিকনাগুল বাজারটি ইউনিয়ন বাজার কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বিষয়টির বৈধতা যাচাই করতে বর্তমান চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনও সেই চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পাঁচ দিনের জন্য দেওয়া সরকারি অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পরও হাটটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কারা এর আর্থিক সুবিধাভোগী এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কারা জড়িত এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রশাসনের কার্যকর তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।