আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতে শুরু হয়েছে জি-২০ সম্মেলন। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এ অনুষ্ঠানে দেশের নাম ‘ইন্ডিয়া’র পরিবর্তে ইংরেজিতে ‘ভারত’ লেখা ছিল।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, করোনা মহামারি পর বিশ্ব নেতাদের বিশ্বাসে ঘুন ধরেছে। যার পরিণতি ইউক্রেন যুদ্ধ। আমাদের এই আবহ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে আগত বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের কাছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পাঠানো নৈশভোজের যে আমন্ত্রণপত্র ঘিরে বিতর্কের সূচনা, শনিবার রাতেই তার আয়োজন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ভারত’। কিন্তু ভারতের রাষ্ট্রপতি কাউকে কোনো চিঠি লিখলে তাতে চিরাচরিত ভাবে লেখা থাকে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ কথাটি। এই পরিচয়লিপি বদল ঘিরে বিতর্কের আবহেই গত মঙ্গলবার মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের সূচি এক্স (সাবেক টুইটার)-এর হ্যান্ডলে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে মোদির পদ লেখা হয়, ‘প্রাইম মিনিস্টার অফ ভারত’।
জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চেই ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধানের মতোই আফ্রিকান ইউনিয়নের সভাপতিকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার জন্য আহ্বান করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘একুশ শতক বিশ্বকে নতুন দিকনির্দেশ দেওয়ার শতক। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের পুরনো সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যখন আমরা কোভিডকে পরাজিত করতে পেরেছি তখন আমরা এই আস্থার ঘাটতির সঙ্কটের বিরুদ্ধেও জয়ী হতে পারব।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের উপস্থিতিতে মোদির এই মন্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, আমেরিকা ও পশ্চিমাদের ধারাবাহিক চাপ সত্ত্বেও রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ কোনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব সমর্থন করেনি ভারত। মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগও ছিন্ন করেনি। সেই নীতিতে অটল থাকার বার্তা দিয়েই মোদি বলেন, ‘‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ মন্ত্রেই আস্থাহীনতার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে আমাদের।’’
R/N