সিলেটবাসীর স্মৃতিতে অমলিন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান

প্রকাশিত: 12:20 AM, June 17, 2026

সিলেটবাসীর স্মৃতিতে অমলিন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান

নোভা মিডিয়া সিলেট ডেস্ক:

সিলেটের রাজনীতির অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রথম নির্বাচিত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল ১৫ জুন, তাঁর মৃত্যুর ছয় বছর পূর্ণ হলো। ২০২০ সালের এই দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেটবাসীর কাছে তিনি এখনও ‘গণমানুষের নেতা’ এবং জনমুখী রাজনীতিক হিসেবে সমানভাবে স্মরণীয়।

২০২০ সালে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ জুন বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এর আগে ২৭ মে তাঁর স্ত্রী আসমা কামরানও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন কামরানকে সিলেট থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন ভোরে তিনি মারা যান।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করা বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৭৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই তিনি মাত্র ২২ বছর বয়সে প্রথমবার সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৫ সালে তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে কামরান প্রথম ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সিসিকের প্রথম নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন এই নেতা। ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন, যা তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী (বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী) আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে জয়ী হতে পারেননি।

দলীয় রাজনীতিতেও দীর্ঘ সময় সিলেটের আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কামরান। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় দশক সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। এ ছাড়া ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল ছিলেন।

ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখনো উচ্চারিত হয় কামরানের নাম। স্থানীয়দের মতে, দলমত নির্বিশেষে মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তিনি আজও সিলেটবাসীর হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে আছেন। রাজনীতিতে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতায়।

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares