’সুন্দরী গো মানিলা’ গানের মালিকানা শিল্পী জুয়েল আহমদের

প্রকাশিত: 12:59 PM, July 4, 2026

’সুন্দরী গো মানিলা’ গানের মালিকানা শিল্পী জুয়েল আহমদের

নোভা মিডিয়া সিলেট ডেস্ক:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সঙ্গীতাঙ্গনে বহুল আলোচিত সিলেটের জনপ্রিয় আঞ্চলিক গান ‘সুন্দরী গো মানিলা’-এর গীতিকার ও মালিকানা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটেছে। সিলেটের বিশ্বনাথে অনুষ্ঠিত এক স্থানীয় সালিশ বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর শিল্পী জুয়েল আহমদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৩ জুলাই) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলার সিঙেঁরকাছ বাজারের সিতারা কমিউনিটি সেন্টারে এই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের মো. ফাহিম আহমদের মধ্যস্থতায় এবং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবারক আলীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক সম্পন্ন হয়।

বৈঠকে গানটির গীতিকার দাবিদার খালেদ মিয়া প্রথমে তার বক্তব্য, দাবি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। পরে শিল্পী জুয়েল আহমদ নিজের সপক্ষে যুক্তি ও বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে চলে দীর্ঘ যুক্তিতর্ক। এতে তোফাজ্জুল ভান্ডারী, আবুল কালাম এবং খালেদ মিয়ার ছেলে আরিফুর রহমান লালন উভয় পক্ষকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বক্তব্যের ব্যাখ্যা নেন।

দীর্ঘ শুনানি ও আলোচনা শেষে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি সালিশ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে ছিলেন— দৌলতপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবারক আলী, বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, বাউল শিল্পী মুক্তার আহমদ বকুল, তোফাজ্জুল ভান্ডারী, আবুল কালাম, গীতিকার এইচ এম আরশ আলী, ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন, ইউপি সদস্য নুর উদ্দিন এবং সাংবাদিক তৌফিকুর রহমান হাবিব।

সালিশ বোর্ড উভয় পক্ষের বক্তব্য, উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক, স্থানীয় পর্যায়ে ‘সুন্দরী গো মানিলা’ গানের প্রকৃত মালিক হিসেবে শিল্পী জুয়েল আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর গীতিকার দাবিদার খালেদ মিয়া সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য না দিয়েই সভাস্থল ত্যাগ করেন। দাবিদার সভাস্থল ত্যাগকরা টা কোন কারণ আছে কিনা তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় এই গানটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীতাঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক চলছিল। এর আগে বিরোধ নিরসনে গীতিকার এইচ এম আরশ আলী, তোফাজ্জুল ভান্ডারী এবং সিলেটের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী পৃথকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সর্বশেষ অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের উদ্যোগে উভয় পক্ষ সম্মত হলেও সালিশের স্থান নিয়ে মতবিরোধে তা ভেস্তে যায়। অবশেষে মো. ফাহিম আহমদের আন্তরিক উদ্যোগে আয়োজিত এই সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই মালিকানা বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

0Shares