প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ প্রাণভয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না

প্রকাশিত: 9:25 PM, July 5, 2026

প্রবাসীর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ প্রাণভয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না

নোভা মিডিয়া সিলেট ডেস্ক:

দক্ষিণ সুরমার বলদি গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের সম্পত্তি দখল, স্বর্ণালঙ্কার চুরি, মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন তার আমমোক্তার একই গ্রামের বাসিন্দা মো. কালা মিয়া। মাহবুবুর রহমানের ছোট ভাই ময়নুল ইসলাম এবং ছোট বোন আকলিমা বেগম লাকি ও তার স্বামী শাহ আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. কালা মিয়া। তিনি বলেন, মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ছোট ভাই-বোনেরা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালে তিনি নিজের কষ্টার্জিত অর্থে বাবার নামে দক্ষিণ সুরমার বলদি মৌজায় ২৩ শতক ভূমি ক্রয় করে সেখানে দালান নির্মাণ করেন, যাতে বাবা-মা ও ছোট ভাই-বোনরা বসবাস করতে পারেন। পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়ার ব্যয় বহনের পাশাপাশি তিন বোনের বিয়ের খরচও তিনি বহন করেন। দ্বিতীয় ভাই নাজমুল ইসলামকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেন। পরে ছোট ভাই ময়নুল ইসলামকেও যুক্তরাজ্যে নিয়ে যান এবং বৈধভাবে সেখানে রাখার জন্য তার বিয়ের ব্যবস্থাও করেন। তবে বিয়ে চূড়ান্ত হওয়ার পর কাউকে না জানিয়ে ময়নুল দেশে ফিরে এসে নিজের পছন্দে বিয়ে করেন ।

তিনি আরও বলেন, বাবার মৃত্যুর পর মাহবুবুর রহমান নিজের অর্থে গড়ে তোলা সম্পত্তি ভাই-বোনদের মধ্যে ভাগ করে দেন। তিন ভাই বাড়ির ৭ দশমিক ৬৬ শতক করে জমি পান এবং পরে তিন বোন তাদের প্রাপ্ত অংশ হেবা দলিলের মাধ্যমে তিন ভাইকে হস্তান্তর করেন। এরপর ছোট বোন আকলিমা বেগম লাকির বাড়িও নির্মাণ করে দেন এসময় সাময়িকভাবে আকলিমা বাবার বাড়িতে থাকার অনুমতি নিলেও তিনি ও তার স্বামী শাহ আব্দুস শহীদ মাহবুবুর রহমানের অংশের বাড়ি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, মাহবুবুর রহমান তার মাকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উপহার দিয়েছিলেন। ২০২০ সালে মায়ের মৃত্যুর পর সেগুলো স্টিলের আলমারিতে সংরক্ষিত ছিল। গত ২২ জুন শাহ আব্দুস শহীদ সেগুলো চুরি করে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া বাড়ির বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

মো. কালা মিয়া বলেন, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্বর্ণালঙ্কার চুরি ও গাছ কাটার অভিযোগে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ছোট ভাই, বোন ও ভগ্নিপতির কর্মকাণ্ডের কারণে মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। দেশে এলে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারেন এবং নিজের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত বাড়িতে বসবাসের সুযোগও পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তিনি চরম মানসিক উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রবাসীর দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আমাদের তথ্যচিত্র গান কবিতা নাটক ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করুন।
0Shares