জাতীয় ডেস্ক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা প্রার্থী হলে তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে কমিশন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রোববার নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার জানান, বর্তমান আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন ছাড়াই অরাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাও সংশোধন করা হবে।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে রাজনৈতিক পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নয় বলে মন্তব্য করেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন অরাজনৈতিকভাবেই হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিছু বলার সুযোগ নেই।
শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা একদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হন, অন্যদিকে তাঁদের সহকর্মীদের অনেক সময় প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকে।
তিনি বলেন, “শিক্ষকেরা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁরা যাতে বিতর্কের মুখে না পড়েন, সেটিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। কোনো শিক্ষক নির্বাচনে প্রার্থী হলে তাঁর সহকর্মীরা তাঁর পক্ষে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ উঠতে পারে। আবার তাঁদেরই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।”
নির্বাচন কমিশনার জানান, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষকদের নির্বাচনের বাইরে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিসভা ও সংসদে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।
জামায়াতের সমালোচনার জবাব
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না এবং কমিশনকে অসহায় মনে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমি চাপে আছি কি না, সেটা আমি নিজেই জানি। বরং এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম বা রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশন নিয়ে নিজস্ব মতামত দিতেই পারে। তবে সব মতামত যে সবসময় সঠিক হবে, এমন নয়।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, নির্বাচন কমিশনের এ প্রস্তাব অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক।