নোভা মিডিয়া সিলেট ডেস্ক:
সিলেট মহানগরীকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুশাসিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিলেটে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
শনিবার (২২ আগস্ট) এসএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে সিলেট মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, বিপিএম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সিলেট একটি শান্তিপ্রিয় ও আধ্যাত্মিক নগরী। এখানে কোনো অবস্থাতেই মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। সামাজিক এই ব্যাধিগুলো রূপ নিচ্ছে মারাত্মক অপরাধে, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এসএমপি কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইন অনুযায়ী কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
জবাবে এসএমপি পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম আশ্বাস দিয়ে বলেন, মহানগরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মেট্রোপলিটন পুলিশ তাৎক্ষণিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশেষ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, পিপি এডভোকেট আশিক উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ সিলেটের স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সম্মেলন কক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা দ্বিপক্ষীয় শুল্ক নীতির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির আওতায় বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রযোজ্য হয়েছে। এটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে অন্যতম সর্বনিম্ন শুল্ক হার, যা আমাদের রপ্তানি খাতের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক।”
সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগে দারুণ আগ্রহ দেখিয়েছেন। এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট করতে এফবিসিসিআই-এর সঙ্গে যৌথভাবে দুটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার জটিলতা কাটাতে দেশের সীমান্ত ল্যান্ডপোর্টগুলো দ্রুত পুরোপুরি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মুক্তমনে প্রশ্ন করার অধিকারই সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান, যেন প্রশাসনিক কাজে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় থাকে।