, ,

কানাইঘাট হাসপাতালে অনিয়ম, ক্ষুব্ধ ভিসি

Shiuly
প্রকাশিত July 8, 2026, 08:17 PM
কানাইঘাট হাসপাতালে অনিয়ম, ক্ষুব্ধ ভিসি

ইকবাল বাহার:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিমেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী স্থানীয় এক যুবকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তার এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিলেট-৫ সংসদীয় আসনের এমপি মুফতি আবুল হাসান, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এবং সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনকালে বদরুল নামে কানাইঘাট উপজেলার এক বাসিন্দা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে যান এবং কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী তার ওপর চটে যান। তিনি যুবকের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে না শুনে উল্টো রাগান্বিত হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে ভিসি মন্তব্য করেন, আপনাদের সীমান্ত এলাকায় ডাক্তার, নার্সরা আসতে চায় না। অভিযোগ না দিয়ে সহযোগিতা করুন।

এই ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও সেবা বঞ্চিত রোগীদের নিয়ে কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবদল নেতা বদরুল। এ সময় উপাচার্য অভিযোগ না শুনে উল্টো তার ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। এক পর্যায়ে তাকে তিনি বলেন, ‘‘এটি সীমান্তবর্তী এলাকা, এখানে কেউ আসতে চায় না। কানাইঘাটে আপনারা ডাক্তার তৈরি করেন।’’

তার সাথে সুর মেলান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল। তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতাল নিয়ে অভিযোগ না করে হাসপাতালে কি কি লাগে সেটা নিয়ে কথা বলেন। তিনি এও বলেন সরকারি হাসপাতালের খাবারে কিছু গাফিলতি থাকে।’’

স্থানীয়দের মতে, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে সাধারণ মানুষ হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা জানাতেই পারেন। কিন্তু নাগরিকের অভিযোগ ধৈর্য সহকারে না শুনে এভাবে রেগে যাওয়া এবং ধমক দেওয়া কোনোভাবেই একজন ভিসির সুলভ আচরণ নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মূল কাজ একাডেমিক ও প্রশাসনিক তদারকি করা; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক দেখভাল বা স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর মেজাজ দেখানোর এখতিয়ার তার নেই।

এদিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য, উপাচার্য এবং সিভিল সার্জন হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার আশ্বাস জানান। একই সাথে হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০ শয্যার নতুন ভবনটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘‘বিষয়টি যেভাবে নেতিবাচক করে উপস্থাপন করা হচ্ছে সেকরম নয়। যে বা যারা নালিশ করেছে, আমি শুধু তাদের বলেছি- শুধু নালিশ না করে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের এখানে ধরে রাখার চেষ্টা করুন। খালি অভিযোগ করলে একজন কর্মকর্তার মানসিক অবস্থাও তো ভালো থাকে না।’’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, ‘‘আমি আসলে কথাটা এভাবে বলিনি। আমি বুঝাতে চেয়েছি সরকারি হাসপাতালগুলো নিয়ে এমন অভিযোগ থাকে। উনারা যেহেতু আসছিলেন স্থানীয়রা যেহেতু সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কথাবার্তা বলেন সে বিষয়টা আমি তুলে ধরতে চেয়েছি।’’

পরিদর্শনকালে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম, সহকারী পরিচালক (রোগ নির্ণয়) ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আখলাক আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবল চন্দ্র বর্মণ সহ চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।