, ,

স্কাউটসের দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষককে ‘অনুপস্থিত’ দেখানোর অভিযোগ

নোভা মিডিয়া সিলেট
প্রকাশিত July 22, 2026, 08:52 PM
স্কাউটসের দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষককে ‘অনুপস্থিত’ দেখানোর অভিযোগ

নোভা মিডিয়া সিলেট ডেস্ক:

‎বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্দেশনায় সরকারি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ায় সিলেটের এক সহকারী শিক্ষককে হাজিরা খাতায় অবৈধভাবে ‘অনুপস্থিত’ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরেশ দাসের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের নাম মো: আরিফুর রহমান, যিনি সিলেট সদর উপজেলার রাখালগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের একজন দক্ষ ইউনিট লিডার।

‎এই ঘটনার প্রতিকার এবং বেতন বন্ধ ও সামাজিক অসম্মান থেকে রেহাই পেতে গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) ‎এবং সিলেট সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ওই শিক্ষক।

‎আবেদনপত্র সূত্রে জানা যায়, মো: আরিফুর রহমান বাংলাদেশ স্কাউটসের একজন উডব্যাজার, সি.এ.এল.টি. সম্পন্নকারী ইউনিট লিডার এবং সিলেট অঞ্চলের প্রোগ্রাম ও আন্তর্জাতিক উপকমিটির একজন সদস্য। বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্দেশনায় গত ২৬ জুন থেকে ০১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত গোলাপগঞ্জের লক্ষণাবন্দের আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘৫০৪তম কাব স্কাউট ইউনিট লিডার অ্যাডভান্সড কোর্স’-এ প্রশিক্ষক (ট্রেইনার) হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মনোনীত হন।

‎গত ২৪ জুন জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইমেইলের মাধ্যমে এই ডেপুটেশনের (প্রেষণ) আদেশ পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ২৪ জুন বিকেলে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে চিঠি সংগ্রহ করার জন্য প্রধান শিক্ষক পরেশ দাসের নিকট অনুমতি চাইলে, প্রধান শিক্ষক তাকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাইল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষককে ডেপুটেশনের চিঠি এবং স্কাউটসের দায়িত্ব পালনের আদেশের ছবি পাঠিয়ে অনুমতি প্রার্থনা করেন আরিফুর রহমান।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, সফলভাবে প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে বিদ্যালয়ে ফিরে এসে ওই শিক্ষক দেখতে পান, প্রধান শিক্ষক তাকে গত ২৫ জুন থেকে ০২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হাজিরা খাতায় সম্পূর্ণ বিনা অনুমতিতে ‘অনুপস্থিত’ লিখে রেখেছেন।

‎ভুক্তভোগী শিক্ষক মো: আরিফুর রহমান আবেদনে ক্ষোভ প্রকাশগ করে বলেন, ”বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরেশ দাস স্কাউটিং পছন্দ করেন না এবং স্কাউটিং সম্প্রসারণে কোনো সহযোগিতা করেন না। অথচ আমার প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় বিগত ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের এবং অন্যান্য ইউনিটের কাব শিশুরা ধারাবাহিকভাবে ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে। স্কাউটসের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করার পরও আমাকে এভাবে অনুপস্থিত দেখানো অত্যন্ত বিব্রতকর, অসম্মানজনক এবং আমার চাকুরির জন্য ক্ষতিকর।”

‎এই ঘটনার পর নিজের চাকুরির নিরাপত্তা, বেতন বন্ধের আশঙ্কা ও সামাজিক অসম্মান থেকে রেহাই পেতে এবং এলাকায় স্কাউটিং কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্বারস্থ হয়েছেন এই শিক্ষক। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।