সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং দীর্ঘদিনের দাবিকৃত সরাসরি সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়াকে তার সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভা, পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জুয়া, অনলাইন বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং এবং সমাজবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। নির্বাচিত হলে এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জুয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন পাস হওয়ার পর তার সমর্থকদের দাবি, নির্বাচনের আগে দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে। নতুন আইনে অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধের জন্য আগের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তি ও উচ্চ অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তাদের মতে, এ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তরুণ সমাজকে জুয়ার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, বহু বছর ধরে সিলেটবাসী ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল সরাসরি সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনরায় চালু করা। অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত সেই ফ্লাইট চালু হওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রুট চালু হওয়ার ফলে যাত্রীদের সময় ও খরচ উভয়ই কমবে, কমবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি। একই সাথে সিলেটের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য আরও সহজ এবং গতিশীল হবে।
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সমর্থকদের ভাষ্য, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নে তিনি ধারাবাহিকভাবে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। জুয়া বিরোধী কঠোর আইন এবং সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু—দুই উদ্যোগই জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন বা সেবা চালু করাই শেষ কথা নয়। জুয়া বিরোধী আইনটি মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং বিমানসেবাটি নিয়মিত ও টেকসইভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এর প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবে। একই সঙ্গে এসব জনমুখী উদ্যোগ সরকারের প্রতি জনআস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।